বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু ক্ষেতের একশ’ বিঘা জমির ধান কাটা হবে আগামী ২৬ এপ্রিল।

পল্লী টিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ শস্যচিত্রটি গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার পর এবার সেই শস্য কাটতে যাচ্ছে আয়োজক কমিটি। বিশ্বরেকর্ডে স্থান করে নিয়ে ইতিহাস গড়া বঙ্গবন্ধুর চিত্রটি এখন সবচেয়ে বড় শস্যচিত্র। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে ধানের ক্ষেতে তৈরিকৃত শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু ক্ষেতের একশ’ বিঘা জমির ধান কাটা হবে আগামী ২৬ এপ্রিল।

গাঢ় বেগুনীগাছে বেগুনী ও সবুজ ধানগাছে সোনালী রঙের ধান শীষে ভরে উঠেছে। পুরো ধানের মাঠ বাতাসে দুলছে উপর থেকে দেখলে মনে হবে বঙ্গবন্ধুর চিত্রটিও দুলছে। পুরো মাঠে ধানের শীষ দুলছে। বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর এবার ধান কাটা সময় হয়ে পড়েছে। ভালমানের ধান দেখা যাচ্ছে জমিতে। রোদ পড়ে চকচক করছে ধানের শীষগুলো। এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উচ্চ ফলনশীল দুই ধরনের ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর আয়তন ছিল ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। শস্যচিত্রের দৈর্ঘ্য ৪শ’ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৩শ’ মিটার। ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ গিনেজ বুকে স্থান পেয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের জন্য। এই কাজের জন্য ইতিমধ্যে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামী ২৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ধানকাটা হবে। যদিও বেশ কয়েকদিন আগেই ধানকাটার উপযোগী হয়েছে। ধানকাটার পর সেগুলো ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের কাহালুর প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হবে। সে ধানগুলোর বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে বিএনসিসি ও অন্যন্য কৃষিবিদদের নিপুণ কারুকাজে তৈরি শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর বিশাল ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ফুটে ওঠে। ধানের গাছ ছোট অবস্থায় উচুঁ থেকে ড্রোন দিয়ে ছবি তোলার পর বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ফুটে উঠতে দেখা যায়। ধান চারা যতই বড় হয়েছে ততটায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ মার্চ বিশ্বের সবচেয়ে বড় শস্যচিত্র হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে এবং বেসরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ নামে বিশাল আয়তনের এই প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই চিত্রকর্ম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘শস্যচিত্র’ হিসেবে গত ১৬ মার্চ গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অর্ন্তভুক্ত হয়। তবে ধানচারা থেকে ধান বেরিয়ে আসায় বর্তমানে শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধু অবয়বকে কিছুটা পাল্টে গেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যক্ষেত্রের বিশাল ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গ্রিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পাওয়ার পর এটিকে নিয়ে দেশের মানুষর আগ্রহের শেষ ছিল না।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ